জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ দয়া বা চ্যারিটির পরিবর্তে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে ন্যায্য অধিকার হিসেবে জলবায়ু অর্থায়ন চায়। বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান মাত্র শূন্য দশমিক ৪৭ শতাংশ হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব এ দেশকেই ভোগ করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম মণি ।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে 'বাংলাদেশ অ্যাট কপ৩১: ফ্রম ন্যাশনাল প্রায়োরিটিজ টু গ্লোবাল ক্লাইমেট অ্যাকশন' শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আজকের প্রজন্ম ফোরাম (এপিএফ) ও ইয়াং ক্লাইমেট অ্যাকশন নেটওয়ার্কের সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় ।
চিফ হুইপ বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে নিরাপদ পানির তীব্র সংকট তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে বরগুনা ও খুলনায় মৎস্য ও কৃষিসম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতি বছর বন্যা মানুষের ঘরবাড়ি, ধানক্ষেত ও গবাদিপশু ভাসিয়ে নিচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের বাড়তি ব্যয়ের বোঝা বহন করছে ।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ কখনো বিশ্বে সংঘাত ছড়ায়নি বা অস্ত্র তৈরি করেনি। তারপরও উন্নত দেশগুলোর ঐতিহাসিক কার্বন নিঃসরণের মূল্য সাধারণ বাংলাদেশিকেই দিতে হচ্ছে ।
জলবায়ু অর্থায়ন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন নুরুল ইসলাম মণি। তিনি বলেন, তহবিলের স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং সহায়তা সরাসরি জলবায়ু-প্রভাবিত মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। জলবায়ু অর্থায়ন যেন অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক বাধা ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে ।
আসন্ন কপ৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের জলবায়ু অগ্রাধিকার ও তরুণদের ঐক্যবদ্ধ দাবি তুলে ধরার জন্য সব অংশীদারকে আহ্বান জানান তিনি। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি ও ক্ষতিপূরণ মোকাবিলায় বাংলাদেশের বৈধ অধিকারের প্রতি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি জোরদারেরও দাবি জানান চিফ হুইপ ।
মন্তব্য (0)
আপনার মন্তব্য লিখুন
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!